নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার নিয়ম ২০২৬। 2 মিনিটে নতুন ভোটার আবেদন করার নিয়ম

নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার নিয়ম ২০২৫

বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক নাগরিক ১৬ বছর পূর্ণ করে নতুনভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান। ভোটাধিকার ব্যবহার করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা জরুরি, আর সেই জন্যই নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা প্রয়োজন। নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার নিয়ম ২০২৫ অনুযায়ী এখন আবেদন করা যায় খুব সহজে, অনলাইনে বা উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

ভোটার হতে কি কি লাগে ২০২৫

নতুন ভোটার হতে হলে কিছু মৌলিক যোগ্যতা ও কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এসব নথি ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।

প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসমূহ

  • অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর হতে হবে (ভোট দেওয়ার জন্য ১৮ বছর প্রয়োজন)।
  • আগে কখনও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নিবন্ধন করা যাবে না
  • স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা অবশ্যই বাংলাদেশে হতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

প্রয়োজনীয় নথিবিবরণ
জন্ম নিবন্ধনঅনলাইন জন্ম নিবন্ধনের বাংলা ও ইংরেজি কপি
পিতা-মাতার NIDউভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
নাগরিকত্ব/চারিত্রিক সনদইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কর্তৃক প্রদত্ত
শিক্ষাগত সনদথাকলে সংযুক্ত করতে হবে
বিবাহিতদের জন্যস্বামী বা স্ত্রীর NID কপি
ঠিকানার প্রমাণবিদ্যুৎ বিল, চৌকিদারী ট্যাক্স, হোল্ডিং ট্যাক্স বা পানি বিল
রক্তের গ্রুপ রিপোর্টহাসপাতাল বা ল্যাব থেকে সংগ্রহকৃত রিপোর্ট
চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্রবর্তমান ঠিকানার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন

নতুন ভোটার আবেদন করার নিয়ম

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) নতুন ভোটার আবেদন গ্রহণ করে দুটি উপায়ে

  1. অনলাইনে (services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে)
  2. উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে সরাসরি গিয়ে

নিচে অনলাইন আবেদন করার ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।


নতুন ভোটার আবেদন করার পদ্ধতি (অনলাইন ধাপে ধাপে)

২০২৫ সালের নতুন ভোটার আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইন আবেদন সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি। এটি সম্পন্ন করতে ইন্টারনেট সংযোগসহ মোবাইল বা কম্পিউটার এবং কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে রাখতে হবে।

🔹 ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ

প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান –
👉 https://services.nidw.gov.bd

এখানে “Apply for Registration” অপশনটি নির্বাচন করুন।


🔹 ধাপ ২: একাউন্ট তৈরি

একাউন্ট তৈরির জন্য নিম্নলিখিত তথ্যগুলো দিতে হবে –

  • পূর্ণ নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
  • জন্ম তারিখ
  • ক্যাপচা কোড
    এরপর “Next” বাটনে ক্লিক করলে মোবাইল নম্বর চাইবে।

মোবাইল নম্বরে একটি OTP (One-Time Password) যাবে। সেই OTP দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। যাচাই শেষে নিজের পছন্দমতো ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্ট তৈরি করা যাবে।


🔹 ধাপ ৩: লগইন করে আবেদন শুরু

একাউন্ট তৈরির পর NID Services পোর্টালে লগইন করুন এবং “New Voter Registration” বাটনে ক্লিক করুন। এখন আবেদন ফরমটি তিন ধাপে পূরণ করতে হবে।

🟢 ধাপ ৩.১: ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান

এখানে দিতে হবে—

  • নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
  • জন্ম নিবন্ধন নম্বর
  • রক্তের গ্রুপ
  • পিতা-মাতার নাম ও NID নম্বর
  • ধর্ম, লিঙ্গ, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা

🟢 ধাপ ৩.২: অন্যান্য তথ্য প্রদান

  • মোবাইল নম্বর
  • ইমেইল (যদি থাকে)
  • বিবাহিত হলে স্বামী/স্ত্রীর NID নম্বর
  • যোগাযোগের ঠিকানা

🟢 ধাপ ৩.৩: ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য

  • স্থায়ী ঠিকানা (গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা)
  • বর্তমান ঠিকানা (যদি আলাদা হয়

সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর “Save and Continue” বাটনে ক্লিক করুন।

🔹 ধাপ ৪: তথ্য যাচাই ও সাবমিট

ফরম পূরণের পর একটি প্রিভিউ দেখানো হবে। সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন —
যদি কোনো ভুল থাকে, “Edit” অপশন ব্যবহার করে সংশোধন করুন।
সব কিছু সঠিক থাকলে আবেদন সাবমিট করুন।

🔹 ধাপ ৫: আবেদন ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট

সাবমিট করার পর আবেদন ফরমের একটি PDF ফাইল তৈরি হবে।
এই ফরমটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন, কারণ এটি উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম

🔹 ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা

প্রিন্ট করা ফরমের সঙ্গে নিচের কাগজপত্রগুলো সংযুক্ত করুন—

  • জন্ম নিবন্ধনের কপি
  • পিতা-মাতার NID কপি
  • নাগরিকত্ব সনদ
  • রক্তের গ্রুপ রিপোর্ট
  • চেয়ারম্যানের সত্যায়ন
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র

সব কাগজপত্র যাচাই করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিন।

🔹 ধাপ ৭: বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন

আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন অফিস থেকে SMS বা ফোন কলের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হয়ে নিচের কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে—

  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান
  • ছবি তোলা
  • স্বাক্ষর গ্রহণ

এই ধাপের মাধ্যমে আপনার ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।

🔹 ধাপ ৮: আইডি কার্ড প্রস্তুত ও সংগ্রহ

বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হলে নির্বাচন কমিশন আপনার তথ্য যাচাই করবে। সবকিছু সঠিক থাকলে সাধারণত ১৫–৩০ দিনের মধ্যে আইডি কার্ড প্রস্তুত হয়
এরপর অনলাইনে লগইন করে ডিজিটাল কপি (printable NID) ডাউনলোড করা যায় এবং পরবর্তীতে হার্ডকপি (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহ করা সম্ভব।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে কি কি লাগে

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য নিচের কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করতে হবে—

  • জন্ম নিবন্ধনের কপি (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়)
  • পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • নাগরিকত্ব বা চারিত্রিক সনদ
  • বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর NID কপি
  • রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট
  • চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র
  • বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বা পানি বিল, ট্যাক্স সনদ)

বিশেষ টিপস:
আবেদন ফরমের ৪০ নম্বর ঘরে প্রতিবেশীর নাম ও NID নম্বর দিতে হয়। এই অংশটি অনেকেই বাদ দেন, ফলে আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়মে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—

  1. অনলাইনে একাউন্ট তৈরি করে আবেদন ফরম পূরণ করুন।
  2. প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।
  3. স্থানীয় চেয়ারম্যানের সত্যায়ন নিন।
  4. উপজেলা নির্বাচন অফিসে ফরম ও কাগজপত্র জমা দিন।
  5. অফিস থেকে SMS পেলে নির্ধারিত তারিখে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
  6. তথ্য যাচাইয়ের পর ১৫–৩০ দিনের মধ্যে আইডি কার্ড প্রস্তুত হবে।

নতুন ভোটার আবেদন সংক্রান্ত অতিরিক্ত টিপস

  • জন্ম নিবন্ধন ও আবেদন ফরমের তথ্য যেন পুরোপুরি মিলে যায়।
  • ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
  • আবেদন সাবমিট করার পর প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করুন, ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন হবে।
  • বায়োমেট্রিকের সময় পিতা-মাতার NID কপি সঙ্গে রাখুন।
  • আবেদন জমা দেওয়ার আগে কাগজপত্রের সব কপি সত্যায়িত করা আবশ্যক।

সারসংক্ষেপ টেবিল

ধাপকাজের বিবরণপ্রয়োজনীয় সময়
ধাপ ১অনলাইনে একাউন্ট তৈরি৫–১০ মিনিট
ধাপ ২আবেদন ফরম পূরণ১৫–২০ মিনিট
ধাপ ৩প্রিন্ট ও জমা১ দিন
ধাপ ৪বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশননির্ধারিত তারিখে
ধাপ ৫আইডি কার্ড প্রস্তুতি১৫–৩০ দিন

এইভাবে ধাপে ধাপে সঠিকভাবে আবেদন করলে খুব সহজেই আপনি নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন এবং আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে যাবেন। সঠিক তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করলেই পুরো প্রক্রিয়া হবে ঝামেলামুক্ত ও দ্রুত।

নতুন ভোটার আবেদন করার জন্য কত বছর বয়স হতে হবে?

ভোটার নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম ১৬ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভোট দেওয়ার জন্য আপনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে।

অনলাইনে নতুন ভোটার আবেদন করার পর কি উপজেলা অফিসে যেতে হবে?

হ্যাঁ, অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয় এবং পরবর্তীতে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হয়।

নতুন ভোটার আবেদন করার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

প্রয়োজন হয় অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, পিতা-মাতার NID কপি, নাগরিকত্ব বা চারিত্রিক সনদ, রক্তের গ্রুপ রিপোর্ট, ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বা পানি বিল) এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের সত্যায়নপত্র

নতুন ভোটার আইডি কার্ড পেতে কত দিন সময় লাগে?

সাধারণত আবেদন যাচাই ও বায়োমেট্রিক সম্পন্নের পর ১৫–৩০ দিনের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ড প্রস্তুত হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *