ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম ২০২৬
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও তথ্য হাতের কাছে রাখতে হবে। কারণ এই তথ্যগুলো ছাড়া আপনি একাউন্ট তৈরি করতে বা লগইন করতে পারবেন না। ভুল তথ্য দিলে একাউন্ট লকও হয়ে যেতে পারে। তাই নিচের বিষয়গুলো আগে জেনে নিন —
যে কাগজপত্র ও তথ্য লাগবে:
- আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর (NID Number) অথবা Form Number (NIDFN)
- আপনার জন্ম তারিখ (দিন-মাস-বছর ফরম্যাটে)
- ভোটার নিবন্ধনের সময় দেয়া মোবাইল নাম্বার
- একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ আছে
- NID Wallet অ্যাপ (ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন হবে)
সতর্কতা:
- যদি আপনি তিনবারের বেশি ভুল তথ্য দেন (যেমন ঠিকানা বা জন্ম তারিখ ভুল), তাহলে আপনার একাউন্ট সাময়িকভাবে লক হয়ে যাবে।
- মোবাইল নাম্বার অবশ্যই সেই নাম্বার হতে হবে যা দিয়ে আপনি ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন।
- ভিন্ন নাম্বার দিলে OTP (ওটিপি) কোড যাবে না, ফলে একাউন্ট খুলতে পারবেন না।
| তথ্যের ধরন | প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|
| NID বা Form Number | পরিচয় যাচাইয়ের জন্য |
| জন্ম তারিখ | পরিচয়ের সঠিকতা নিশ্চিত করতে |
| মোবাইল নাম্বার | OTP যাচাইয়ের জন্য |
| NID Wallet অ্যাপ | ফেস ভেরিফিকেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে |
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম ২০২৬
বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অনলাইনে এনআইডি (NID) ডাউনলোডের সুযোগ দিয়েছে। এখন আর অফিসে যেতে হয় না — বাড়িতে বসেই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে আইডি কার্ড ডাউনলোড করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো।
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে গিয়ে services.nidw.gov.bd লিংকে প্রবেশ করুন।
ওয়েবসাইটে গেলে উপরের দিকে “রেজিস্টার করুন” বাটনটি পাবেন। সেটিতে ক্লিক করুন।

এরপর আপনার সামনে একটি নতুন ফর্ম আসবে। এখানেই আপনি আপনার তথ্য দিয়ে নতুন একাউন্ট তৈরি করবেন।
ধাপ ২: প্রাথমিক তথ্য পূরণ করুন
এই ধাপে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID) অথবা Form Number (NIDFN) দিতে হবে।

- প্রথম ঘরে NID বা ফর্ম নম্বর লিখুন (স্পেস ছাড়া)।
- দ্বিতীয় ঘরে দিন-মাস-বছর ফরম্যাটে জন্ম তারিখ লিখুন।
- এরপর নিচে থাকা Captcha Code সঠিকভাবে লিখে দিন।
- সব ঠিক থাকলে “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
যদি আপনার তথ্য সঠিক হয়, তাহলে একটি পপআপ উইন্ডো আসবে যেখানে “বহাল” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
কিন্তু যদি কোনো এরর আসে, তাহলে বুঝতে হবে হয় আপনার তথ্য ভুল, নয়তো আপনার NID এখনো অনলাইন সিস্টেমে অ্যাকটিভ হয়নি।
ধাপ ৩: ঠিকানা যাচাই করুন
এবার আপনাকে আপনার বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করতে হবে।
ওয়েবসাইটে যে ঠিকানা দেখানো হবে, সেটি আপনার ভোটার নিবন্ধনের সময় দেয়া ঠিকানার সঙ্গে মেলাতে হবে।

যা মনে রাখবেন:
- ভুল ঠিকানা তিনবার নির্বাচন করলে একাউন্ট লক হয়ে যাবে।
- সঠিক তথ্য নির্বাচন করলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
ধাপ ৪: মোবাইল নাম্বার যাচাই করুন
এই ধাপে আপনার ভোটার নিবন্ধনের সময় দেয়া মোবাইল নাম্বারটি স্ক্রিনে দেখা যাবে।
সেখান থেকে আপনি “বার্তা পাঠান” বাটনে ক্লিক করুন।

- ক্লিক করার পর আপনার মোবাইলে একটি OTP (One Time Password) কোড যাবে।
- প্রাপ্ত OTP কোডটি ফাঁকা ঘরে লিখে “Submit” করুন।
- সব সঠিক থাকলে আপনার মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।
এই ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই আপনি আপনার এনআইডি একাউন্টের মালিকানা নিশ্চিত করেন।
ধাপ ৫: QR কোড স্ক্যান ও ফেস ভেরিফিকেশন
OTP সফলভাবে জমা দেয়ার পর আপনি একটি QR Code দেখতে পাবেন।
এই কোডটি আপনাকে NID Wallet নামের মোবাইল অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করতে হবে।
ফেস ভেরিফিকেশন করার প্রক্রিয়া:
- আপনার স্মার্টফোনে Google Play Store খুলুন।
- সেখানে গিয়ে “NID Wallet” অ্যাপটি ইনস্টল করুন।

- অ্যাপটি ওপেন করে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত QR Code স্ক্যান করুন।

- এরপর আপনাকে ক্যামেরা চালু করে মুখের ভেরিফিকেশন (Face Verification) করতে হবে।
এই ফেস ভেরিফিকেশন ধাপটি সম্পন্ন হলে আপনি সফলভাবে আপনার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

ধাপ ৬: ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেট করুন
ফেস ভেরিফিকেশন শেষ হলে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে।
এখানে আপনাকে একটি ইউনিক ইউজারনেম এবং দুইবার পাসওয়ার্ড লিখে সেট করতে হবে।

নিয়ম:
- পাসওয়ার্ডে ইংরেজি বর্ণ, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন থাকতে হবে (যেমন @, #, $)।
- ইউজারনেম এমন দিন যা সহজে মনে রাখা যায় কিন্তু অনুমান করা কঠিন।

- দুইবার একই পাসওয়ার্ড লিখে “আপডেট করুন” বাটনে ক্লিক করুন।
এবার আপনার NID Account তৈরি হয়ে যাবে এবং আপনি সরাসরি লগইন করতে পারবেন।
ধাপ ৭: ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন
একাউন্ট তৈরি শেষ হলে আবার services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করুন।
লগইন করার পর আপনার ড্যাশবোর্ডে “Download” নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন।
- সেখানে ক্লিক করলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের ডিজিটাল কপি (PDF Format) ডাউনলোড হবে।
- এই কপিটি আপনি প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন যেকোনো অফিসিয়াল প্রয়োজনে।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- ডাউনলোড করা ফাইলটি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
- কারো সাথে আপনার ইউজারনেম বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না।
- প্রয়োজনে পিডিএফ ফাইলটি মোবাইল বা কম্পিউটারে রেখে দিন, যাতে ভবিষ্যতে আবার ব্যবহার করতে পারেন।
প্রায়শই পাঠক কতৃর্ক জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে কি এনআইডি নাম্বার লাগবে?
মোবাইল নাম্বার ভিন্ন হলে কি ডাউনলোড করা যাবে?
ফেস ভেরিফিকেশন না করলে কি এনআইডি ডাউনলোড করা সম্ভব?
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে কি কোনো টাকা লাগে?
একাউন্ট লক হয়ে গেলে কী করব?
লেখকের শেষ কথা
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া একসময় অনেক জটিল ছিল, কিন্তু এখন তা সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক এবং সহজ। আপনি চাইলে ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে নিজের NID কার্ড পেতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন —
- তথ্য সঠিক দিতে হবে,
- মোবাইল নাম্বার সক্রিয় থাকতে হবে,
- ফেস ভেরিফিকেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
সবকিছু ঠিকভাবে করলে আপনি খুব সহজেই আপনার ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন।
